দেশের হিতে করছি কাজ, পুরো দাম বুঝে নেবার সময় আজ।
বি এম এস বলতে বুঝি কি? ত্যাগ, তপস্যা, বলিদান আর কী !
বি এম এস বলতে বুঝি কি? ত্যাগ, তপস্যা, বলিদান আর কী !
* সমগ্র দেশব্যাপী এক সেবাশর্ত (সার্ভিসরুল) ও সমবেতনমান লাগু করতে হবে৷
* সমগ্র দেশব্যাপী অবসর গ্রহনের বয়স এক সমান ৬২বছর করতে হবে।
*অবিলম্বে পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া মহার্ঘভাতা প্রদান করতে হবে।
* AICPI অনুযায়ী কেন্দ্রীয়হারে মহার্ঘভাতা প্রদান এবং অবিলম্বে এই সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশনামা প্রকাশ করতে হবে।
* নূন্যতম মৃত্যুকালিন বীমারাশি (GISS) 1.5 লক্ষ টাকা এবং গ্রাচুইটির উর্ধসীমা কেন্দ্রের সমান করতে হবে।
* WBHS 2008 সম্পূর্ণ Cashless চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করতে হবে।
* অবিলম্বে সমস্ত শূন্যপদে স্থায়ী নিয়োগ, তৎসহ কন্ট্রাক্টচুয়াল কর্মীদের স্থায়ীকরণ এবং সমকাজে সমবেতন প্রদান করতে হবে।
* কর্মচারী স্বার্থে উত্তরকন্যায় সম্পূর্ণ প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
দিনাংক : শনিবার, ১৮ই জুলাই ২০২৬ শনিবার
সময় : সকাল ১০ টা
গৈরিক রাষ্ট্রবাদী বিচার পরিবারের অন্তর্গত কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘ (বি এম এস) অনুমোদিত রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন সমূহের (বিভিন্ন প্রদেশের) অখিল ভারতীয় ফেডারেশন 'রাষ্ট্রীয় রাজ্য কর্মচারী মহাসংঘ' (আর আর কে এম এস) তাদের ত্রৈমাসিক কার্যসমিতি বৈঠক আগামী ১৮ এবং ১৯ শে জুলাই ২০২৬ কলকাতার অদূরে কল্যাণী শহরে অনুষ্ঠিত করতে চলেছে। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর ‘লেক হল’-এ এই কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
কার্যসমিতি উপলক্ষে ভারতবর্ষের প্রায় প্রতিটি রাজ্য থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন সমূহের ৭৩ জন কার্যকর্তা উপস্থিত থাকবেন।
ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সুবিধা-অসুবিধা, অভাব-অভিযোগ বিষয়ক আলোচনা সহ সকল প্রকার সাংগঠনিক চর্চা এই কার্যসমিতিতে হতে চলেছে।
কার্যসমিতিতে উপস্থিত থাকবেন বি এম এস এর সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মাননীয় শ্রী উন্নিকৃষ্ণণ উন্নিথনজি, সরকারি ক্ষেত্রের
সর্বভারতীয় প্রভারি আদরণীয় শ্রী এম পি সিংজি, রাষ্ট্রীয় রাজ্য কর্মচারী মহাসংঘ (আর আর কে এম এস) এর সর্বভারতীয় সভাপতি মাননীয় শ্রী গৌরব কুমার সোনিজি, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক আদরনীয় শ্রী রাজেন্দ্র কুমার শ্রীবাস্তবজি, পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ বি এম এস এর মাননীয় অধ্যক্ষ শ্রী উজ্জ্বল মুখার্জি, মহামন্ত্রী আদরনীয় শ্রী দেবাশীষ ভট্টাচার্য মহাশয় সহ আরো অনেকে।
এই উপলক্ষে কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনায় থাকা ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সংঘ পশ্চিমবঙ্গ’ ১৮ই জুলাই ২০২৬ শনিবার সকাল দশটা থেকে বেলা দুটো পর্যন্ত রাজ্যের সকল সদস্যদের অখিল ভারতীয়
কার্যকর্তাগনের সঙ্গে পরিচয় ঘটানোর এবং তাদের থেকে সরকারি কর্মচারী আন্দোলনের দিশা নির্দেশ নেওয়ার জন্য কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ পি জে আবদুল কালাম হল’এ একটি সাধারন সভার আয়োজন করেছে। তৎসহ এই সভায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয়গণ এবং বিধায়কগণের গৌরবময় উপস্থিতি সভার গরিমা বৃদ্ধি করবে। এই কার্যক্রমে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে অন্তত ১০০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেবেন।
ভারতবর্ষ তথা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রম সংগঠন বিএমএস-র অনুমোদিত প্রতিটি রাজ্যের রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠন সমূহের অখিল ভারতীয় ফেডারেশন - 'রাষ্ট্রীয় রাজ্য কর্মচারী মহাসংঘ'। এই ফেডারেশনের অনুমোদনপ্রাপ্ত, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সংঘ পশ্চিমবঙ্গ’ ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ১৯৬১’ এর অধীনিয়মে রেজিস্ট্রিকৃত হয় এবং বি এম এস এর অনুমোদিত, রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত, একমাত্র রাজ্য সরকারী কর্মচারী সংগঠন হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ক্ষেত্রে কাজ শুরু করে। বর্তমানে এই সংগঠনটি সমগ্র রাজ্যব্যাপী দ্রুত বর্ধনশীল। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় সর্বত্র এই সংগঠনের সদস্য-সদস্যা রয়েছেন এবং সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আস্থা অর্জনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
রাষ্ট্রীয় রাজ্য কর্মচারী মহাসংঘের আগামী ‘ত্রৈমাসিক সম্মেলন’ এবং তৎসহ ‘সাধারণ সভা’ সংগঠনের সদস্য-সদস্যা কর্মচারীদের মনোবল এবং সংগঠনের প্রতি আস্থা অনেকটাই বাড়াবে বলে রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সংঘ পশ্চিমবঙ্গ সংগঠন তথা প্রদেশের মাননীয় সভাপতি শ্রী অনুপম সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক আদরণীয় শ্রী আশীষ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় আশাবাদী।

মজদুর তথা শ্রমিক সমস্যার প্রকৃত অর্থে সমাধানের উদ্দেশ্যে ১৯৫৫ সালের ২৩ শে জুলাই ভোপালে একটি বিশেষ অধিবেশনে ভারতীয় মজদুর সংঘের প্রতিষ্ঠা হয়। ওখানে ছোট ছোট করে মজদুর ক্ষেত্রের প্রকৃত অবস্থা বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়েছিল এবং সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে একটি অরাজনৈতিক কেন্দ্রীয় শ্রম সংগঠন স্থাপন করা আবশ্যক।
এরূপ নির্ণয় নেওয়ার প্রেক্ষাপট
ওই সময় ভারত সরকার দ্বারা স্বীকৃত চারটি কেন্দ্রীয় শ্রম সংগঠন (INTUC, AITUC, UTUC, HMS) ছিল এবং এই চারটি সংগঠনই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য INTUC কংগ্রেস পার্টি, AITUC কমিউনিস্ট পার্টি, HMS সোশ্যালিস্ট পার্টি এবং UTUC বলশেভিক ও RSP দ্বারা পরিচালিত হতো। এই প্রতিটি শ্রমিক সংগঠনের বড় বড় অফিস, প্রচুর অর্থ, দক্ষ সুসংগঠিত কার্যকর্তা শ্রেণী, লোকবল, আইনি সহায়তার জন্য উকিল - সবই ছিল। এদের মোকাবেলায় নতুন সংগঠন তৈরি করা এক কথায় খুব কঠিন কাজ ছিল। তবুও বিশেষ কিছু কারণে ভারতীয় মজদুর সংঘ নামক নতুন শ্রমিক সংগঠন তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিস্থিতির বিচারে মজদুর সমস্যার সমাধানে, এবং সার্বিকভাবে পরিস্থিতির বদল আনতে সম্পূর্ণ মজদুর একতা (অলআউট ট্রেড ইউনিয়ন ইউনিটি) অতি আবশ্যক। প্রত্যেক উদ্যোগে (Industry) সবাই মিলে একটি ইউনিয়ন এবং এরকম প্রত্যেক উদ্যোগ থেকে একটি করে ইউনিয়ন নিয়ে জাতীয় স্তরে একটি অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা - তবেই এক বিপুল শক্তি শ্রমিক কর্মচারীরা একত্রিত করতে পারবে, যার সাহায্যে একদিকে উদ্যোগপতি অন্যদিকে সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষ করতে পারবে। যদি সম্পূর্ণ একতা না হয় এবং একটি উদ্যোগে চার-পাঁচটি ইউনিয়ন থাকে (মাল্টিপ্লিসিটি অফ ইউনিয়ন) তবে তার ফায়দা মালিক ও সরকারেরই হয়। একের বিরুদ্ধে অন্যকে লড়িয়ে দিয়ে মালিক ও সরকার ফায়দা নেয় এবং একতার অভাবে শ্রমিক কর্মচারীদের সংঘর্ষ করার শক্তিও ক্রমাগত দূর্বল থেকে দূর্বলতর হয়ে পড়ে।
শ্রমিক কর্মচারীদের একতা কেন হচ্ছে না?
বিচার করে দেখা গেছে পার্টির ছত্রছায়ায় থাকা ইউনিয়নগুলির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করা এবং পরিচালিত হবার ফলে এদের মধ্যে সম্পূর্ণ একতা অসম্ভব। ইউনিয়ন যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চালিত হয় তবে শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষার জায়গায় এরা মূলত পার্টির রাজনৈতিক স্বার্থটাই আগে দেখে। অর্থাৎ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ইউনিয়নগুলো শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থের বিচার পরে করে এবং পার্টির স্বার্থের বিচার আগে করে।
এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়, বিভিন্ন রাজ্যগুলোতে যে যে রাজনৈতিক দলগুলি ক্ষমতায় থাকে সেইসব রাজ্যে উক্ত রাজনৈতিক দলের শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠন শ্রমিক কর্মচারী বিরোধী কার্যের কোনোরূপ প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, আন্দোলন করে না, কারণ তাতে শাসক রাজনৈতিক দলের ক্ষতি হয়। কিন্তু যদি বিরোধী রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকে, সেক্ষেত্রে তারা হরতাল, আন্দোলন করে থাকে। অর্থাৎ প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, আন্দোলন, হরতাল - এসব রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত হয়। সেখানে শ্রমিক কর্মচারীদের স্বার্থ গৌণ এবং রাজনৈতিক স্বার্থই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।
উপরিউক্ত বিষয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করে এই সিদ্ধান্তে আসা হয় যে শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণে সংগঠন অরাজনৈতিক হওয়া অতি আবশ্যক। ব্যক্তিগত স্তরে কোনো শ্রমিক-কর্মচারী যেকোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হতেই পারেন। কিন্তু শ্রমিক কর্মচারী স্বার্থে ইউনিয়নের ক্ষেত্রে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে শ্রমিক কর্মচারী হিতে অরাজনৈতিক হওয়া এবং নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠনকে কখনো রাজনৈতিক আঙিনায় না নিয়ে যাওয়াই শ্রেয়। এখানে একটি বিষয় বলা যায় যে আপনার পায়ে আপনি চপ্পল, জুতো, খড়ম কি পরবেন না পরবেন এটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত অধিকার কিন্তু যখন কোনো মন্দিরে, ধর্মস্থানে প্রবেশ করবেন তখন আপনার পায়ে জুতো, খড়ম, চপ্পল যাই থাকুক না কেন সেটা বাইরে কোথাও খুলে খালি পায়ে তবেই মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করবেন। আবার মন্দির থেকে বের হবার সময় নিজ নিজ জুতো, চপ্পল, খড়ম মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে পড়ে নেবেন। শ্রমিক কর্মচারী স্বার্থে ভারতীয় মজদুর সংঘের ইউনিয়নও ঠিক একই রকম, শ্রমিক কর্মচারী স্বার্থ রক্ষার তাগিদে ট্রেড ইউনিয়নের প্রশ্নে নিজ নিজ রাজনৈতিক জামা, চপ্পল, খড়ম খুলে আসবেন এবং শ্রমিক কর্মচারী স্বার্থ রক্ষায় চিন্তাভাবনা, কর্মসূচি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন এবং ফিরে যাওয়ার পরে বাইরে বেরিয়ে নিজ নিজ রাজনৈতিক জামা, জুতো পরতে পারবেন। ইউনিয়নের কাজ করার সময় রাজনৈতিক বিচারকে দূরে সরিয়ে রেখে কেবল শ্রমিক কর্মচারী স্বার্থ চিন্তাই আবশ্যক।
সরকারের সঙ্গে ইউনিয়নের সম্পর্ক কি হবে?
সরকার কোন দলের সেটা দেখে আমরা নীতি ঠিক করবোনা। যে কোনো দলের সরকার আমাদের সরকার, অর্থাৎ যে কোনো নির্বাচিত সরকার সকলের সরকার হবে। ‘রাষ্ট্র এবং শ্রমিক কর্মচারী’দের প্রতি সরকারের নীতি অনুযায়ী আমাদের নীতি ঠিক হয়ে থাকে। সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হবে রেস্পন্সিভ কোঅপারেশন। অর্থাৎ যে মাত্রায় সরকার ‘রাষ্ট্র এবং শ্রমিক কর্মচারী’র হিতে সহযোগিতার কাজ করবে, সেই সমমাত্রায় শ্রমিক কর্মচারীরা সরকারকে সহযোগিতা করবে। অপরদিকে যে মাত্রায় সরকার ‘রাষ্ট্র এবং শ্রমিক কর্মচারী’দের সঙ্গে অসহযোগিতা করবে, সেই সমমাত্রায় শ্রমিক কর্মচারীরাও সরকারের সঙ্গে অসহযোগিতা করবে। যে মাত্রায় সরকার ‘রাষ্ট্র এবং শ্রমিক কর্মচারী’দের বিরোধ করবে সেই সমমাত্রায় শ্রমিক কর্মচারীরাও সরকারের বিরোধ করবে। এটাই আমাদের নীতি, তা সে যে রাজনৈতিক দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন।
সাধারণের প্রকৃত হিত সাধনের উদ্দেশ্যে কাজ করা জনসংগঠন অরাজনৈতিক হওয়া আবশ্যিক, এবং এই প্রেক্ষাপটেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অনেক সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রবাদী, জাতীয়তাবাদী, কর্মচারী হিতৈষী একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে ২০১৯ সালে রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সংঘ, পশ্চিমবঙ্গ এর প্রতিষ্ঠা হয়। সংগঠনটি ‘ভারতীয় মজদুর সংঘ’, ‘গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ীজ ন্যাশনাল কনফেডারেশন’ ও ‘রাষ্ট্রীয় রাজ্য কর্মচারী মহাসংঘ’ কর্তৃক অনুমোদিত একমাত্র কর্মচারী স্বার্থ রক্ষাকারী সংগঠন হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের কর্মচারী সমাজে নিজের অবস্থান প্রতিনিয়ত মজবুত করে চলেছে।
এমতাবস্থায় সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকৃত অর্থে কর্মচারী হিতে কাজ করার প্রেক্ষিতে আপনাদের তথা সকল কর্মচারী বন্ধুদের ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সংঘ, পশ্চিমবঙ্গ’ এর সদস্যপদ গ্রহণের জন্য আন্তরিকভাবে আবেদন জানাচ্ছি।
সম্পাদকীয় প্রতিবেদন
পরমারাধ্যা ভারতমাতা, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ও ভারতীয় মজদুর সংঘের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রঋষি দত্তোপন্থ ঠেংগড়ীজীকে অন্তরের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
উপস্থিত আজকের সভার সভাপতি মাননীয় শ্রী মিহিরবরণ হালদার (সভাপতি, রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সংঘ, পশ্চিমবঙ্গ), রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তকার্যবাহ শ্রদ্ধেয় শ্রী শশাঙ্ক শেখর দে, রাষ্ট্রীয় রাজ্য কর্মচারী মহাসংঘের মহামন্ত্রী শ্রদ্ধেয় শ্রী রাজেন্দ্র কুমার শ্রীবাস্তবজি, মহাসংঘের কার্যকরী সভাপতি শ্রদ্ধেয় শ্রী শংকর দেবজি, ভারতীয় মজদুর সংঘ পশ্চিমবঙ্গের সম্পাদক শ্রদ্ধেয় শ্রী প্রণব দত্ত মহাশয়, তৎসহ আজকের সম্মেলনে আগত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, ভারতীয় মজদুর সংঘ, রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সংঘ, পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ / প্রান্ত, বিভাগ ও জেলা স্তরের সম্মানীয় কার্যকর্তাগণ ও অন্যান্য সম্মানীয় অতিথিদের আমার প্রণাম, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
বিগত বছরের বিভিন্ন দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ বর্বরোচিত উগ্রপন্থী হানা, বৈদেশিক আক্রমন প্রভৃতি কারণে হতাহত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানাই।
বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ, সদস্যগণ, কার্যক্রমের স্বেচ্ছাসেবকগন এবং আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে যারা এই সম্মেলনকে সাফল্যমন্ডিত করতে সাহায্য করেছেন তাদের সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ধন্যবাদ ও রাষ্ট্রবাদী গৈরিক অভিনন্দন জানাই।
সাংগঠনিক বৃত্ত
২০১৮ সালের মাঝামাঝি আমরা কতিপয় রাজ্য সরকারি কর্মচারী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের তৎকালীন দক্ষিণ বঙ্গ প্রান্তকার্যবাহ শ্রদ্ধেয় জিষ্ণু বসুজির প্রেরণা ও মার্গদর্শনে ভারতীয় মজদুর সংঘের পতাকাতলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একটি সংগঠন গড়ে তুলতে অগ্রসর হই। ৩০শে এপ্রিল, ২০১৯ তারিখে রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সংঘ পশ্চিমবঙ্গ নামে সংগঠনটি নিবন্ধিত হয়। নানা ঘাত প্রতিঘাত চড়াই উৎরাই এর পথ পার হয়ে আজ আমরা সংগঠনের তৃতীয় রাজ্য সম্মেলন উপলক্ষে একত্রিত হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।
রাষ্ট্রীয় রাজ্য কর্মচারী মহাসংঘের আগ্রহ অনুসারে সংগঠনের গঠনতন্ত্র রূপে সঞ্চালন সমিতি, অফিস বিয়ারার এবং রাজ্য কার্যসমিতি গঠন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজন অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন উপসমিতিও গঠন করা হয়েছে।
সংগঠনের কার্য বিস্তারের সুবিধার্থে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ২৩ টি প্রশাসনিক জেলার সাথে সল্টলেককেও একটি জেলার মর্যাদা দিয়ে ২৪ টি সংগঠনিক জেলা নির্ধারিত করা হয়েছে। এর প্রত্যেকটি জেলাতেই আমাদের সংগঠনের সদস্য/সদস্যা রয়েছেন। উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতে জেলা কমিটি সক্রিয় রয়েছে। অবশিষ্ট জেলাগুলিতে আহ্বায়ক নিয়োগের মাধ্যমে কল্যাণ সংঘের কার্যবিস্তারের যোজনা নেওয়া আছে সংগঠনের কার্য বিস্তার চলছে।
বিগত দু'বছর অর্থাৎ ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে সংগঠনের কিছু কার্যক্রম, বৈঠক এবং গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহ নিম্নরূপ:
২২ শে সেপ্টেম্বর ২০২৪: মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা তে ২৩ জন কার্যকর্তার উপস্থিতিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সংঘ, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কার্যসমিতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে সংগঠনকে প্রচারমুখী করতে লিফলেট ছাপানো এবং তা বিতরণ, তৎসহ কিছু আন্দোলনর্থক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
২৮-২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪: কেরালার এর্নাকুলাম শহরে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় রাজ্য কর্মচারী মহাসংঘের অখিল ভারতীয় কার্যসমিতি বৈঠকে রাজ্য থেকে দুজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন। সেই বৈঠকে পরবর্তী অখিল ভারতীয় কার্যকারিনীর সদস্য হিসাবে রাজ্য থেকে তিনজন প্রতিনিধির নাম চাওয়া হয়।
১৩ই জানুয়ারি ২০২৫: ফারাক্কা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সদর কার্যালয় স্বাস্থ্য ভবনে ‘স্টেট এলায়েড এন্ড হেলথ কেয়ার কাউন্সিল’ দ্রুত গঠন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের বিভিন্ন দাবিদার সংক্রান্ত দাবি পত্র প্রদান করা হয়।
জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫: বিএমএস এর সত্তর বৎসর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ নিধি সংগ্রহ অভিযানে রাজ্য সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৮,৫০০/- টাকা সংগ্রহ ও জমা দেওয়া হয়।
১৫-১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: ছত্রিশগড় রাজ্যের রায়পুরে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় রাজ্য কর্মচারী মহা সংঘের অভ্যাস বর্গে রাজ্যের আট জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
২৬-২৭ এপ্রিল ২০২৫: রাজস্থান রাজ্যের বুন্দিতে রাষ্ট্রীয় রাজ্য কর্মচারী মহা সংঘের অখিল ভারতীয় সম্মেলনে রাজ্যের ১২ জন প্রতিনিধি যোগদান করেন। নতুন কার্য সমিতিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে একজন সহ মন্ত্রী এবং একজন কার্য সমিতি সদস্য নিযুক্ত হন।
২৩ শে জুলাই ২০২৫: বি এম এস এর ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন কার্যক্রমে আমরা রাজ্য বিএমএস এবং জেলা বিএমএস এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করি।
২৬ জুলাই ২০২৫: কলকাতার নরেশ ভবনে প্রদেশ কার্য সমিতি বৈঠক আহ্বান করা হয়।
৫-৬ অক্টোবর ২০২৫: মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের উজ্জয়িনী তে অখিল ভারতীয় কার্য সমিতি বৈঠকে রাজ্যের তিনজন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
৩০ নভেম্বর ২০২৫: উজ্জয়িনীতে অনুষ্ঠিত অখিল ভারতীয় কার্য সমিতি চলাকালীন শ্রদ্ধেয় অখিল ভারতীয় মহামন্ত্রীর আগ্রহ অনুসারে কলকাতার নরেশ ভবনে প্রদেশ কার্য সমিতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠকেই ২৪ শে জানুয়ারি ২০২৬ সংগঠনের তৃতীয় ত্রিবার্ষিক রাজ্য সম্মেলনের দিন নির্ধারিত হয় এবং এই কার্য উপলক্ষে দুজন যুগ্ম আহ্বায়কের নেতৃত্বে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠিত হয়।
নমস্কারান্তে,
শ্রী সৌরভ দত্ত
সহ সাধারণ সম্পাদক
রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সংঘ, পশ্চিমবঙ্গ
Bylaws of Rajya Sarkari Karmachari Kalyan Sangha Paschimban
Download PDFসরাসরি যোগাযোগ করতে নিচে দেওয়া ঠিকানায় আসুন, অথবা কার্যকর্তাদের সঙ্গে দুরভাষে সম্পর্ক স্থাপন করুন:
244E, Vivekananda Road, Garpar, Kolkata, West Bengal, PIN - 700006
RSKKS PB Official No. +919433997434 Shri Anupam Sarkar, President, +919593308899 Shri Ashis Chattopadhyay, GS, +919875439986 Shri Mihir Baran Halder, OGS, +919434688735
We use cookies to analyze website traffic and optimize your website experience. By accepting our use of cookies, your data will be aggregated with all other user data.